জুনের ১৩ দিনেই এলো ১৩৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জুনের ১৩ দিনেই এলো ১৩৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 15, 2026 ইং
জুনের ১৩ দিনেই এলো ১৩৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা ছবির ক্যাপশন:

চলতি জুন মাসের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে এসেছে ১৩৬ কোটি ২২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং দেশের অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ বজায় রাখতে প্রবাসী আয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুনের প্রথম ১৩ দিনে গড়ে প্রতিদিন দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি মাসে আসা মোট রেমিট্যান্সের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৩ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সবচেয়ে বেশি, ৮২ কোটি ৫৩ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

রেমিট্যান্স গ্রহণে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আধিপত্য অব্যাহত থাকলেও রাষ্ট্রীয় ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবাসী পরিবারের কাছে অর্থ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে গত মে মাসে দেশে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে গত এপ্রিল মাসে দেশে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

এরও আগে মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন উচ্চতায় পৌঁছে। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠান ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড হিসেবে স্থান পায়।

চলতি বছরের প্রথম দিকের মাসগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ফেব্রুয়ারিতে দেশে আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার এবং জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে আসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার এবং সেপ্টেম্বরে আসে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এছাড়া আগস্ট মাসে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাই মাসে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

এদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
৯ কোটি টাকার মামলায় বিপাকে রাজপাল যাদব, আদালতে আত্মসমর্পণ

৯ কোটি টাকার মামলায় বিপাকে রাজপাল যাদব, আদালতে আত্মসমর্পণ