শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা বাজার এলাকায় একটি নির্বাচনী সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মানুষের নিরাপত্তা ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সারজিস আলম বলেন, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। নির্বাচন সামনে থাকলেও এই গুরুত্বপূর্ণ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ তদন্তসাপেক্ষে জাতিসংঘের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে। সেই দাবির ভিত্তিতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে যমুনা ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলি চালায় বলে অভিযোগ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, এই ঘটনায় বহু মানুষ আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আপনারা মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারেননি, একই সঙ্গে বিচারও নিশ্চিত করতে পারেননি। এখন কেউ যদি ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে, সেখানেও যদি বাধা দেওয়া হয়, তাহলে এটি সরকারের চরম ব্যর্থতারই প্রমাণ।”
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের দাবিকে তারা সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলে মনে করেন এবং এই ন্যায্য দাবির সঙ্গে শতভাগ একাত্মতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে শান্তিপূর্ণ ও যৌক্তিক আন্দোলনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে বিচার প্রক্রিয়ার দায়িত্ব জাতিসংঘের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। তার মতে, এতে অল্প সময়ের মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ সমাধান সম্ভব হতে পারে।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে মানুষ রাস্তায় নামলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়াই বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণ এখন সচেতন এবং তারা বিচার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস মেনে নেবে না। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব বিষয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কসমিক ডেস্ক