অবসরে যাচ্ছেন ‘চাচা ক্রিকেট’, শেষ হতে যাচ্ছে ৬ দশকের এক ইতিহাস The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অবসরে যাচ্ছেন ‘চাচা ক্রিকেট’, শেষ হতে যাচ্ছে ৬ দশকের এক ইতিহাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 30, 2026 ইং
অবসরে যাচ্ছেন ‘চাচা ক্রিকেট’, শেষ হতে যাচ্ছে ৬ দশকের এক ইতিহাস ছবির ক্যাপশন:

প্রায় ছয় দশক ধরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সঙ্গে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে বেড়ানো কিংবদন্তি সমর্থক আবদুল জলিল, যিনি সবার কাছে ‘চাচা ক্রিকেট’ নামে পরিচিত, এবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে এক ধরনের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, কারণ তিনি শুধু একজন সমর্থক নন, বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

বর্তমানে ৭৬ বছর বয়সী এই নিবেদিতপ্রাণ ভক্তকে আর মাত্র দুটি সিরিজে গ্যালারিতে দেখা যাবে। এরপরই শেষ হবে তার দীর্ঘ সমর্থনযাত্রা। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে উপস্থিত থেকে দলকে সমর্থন জানানো এই মানুষটির বিদায় নিঃসন্দেহে ক্রিকেটবিশ্বের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত।

চাচা ক্রিকেট প্রথমবার মাঠে বসে পাকিস্তানের খেলা দেখেন ১৯৬৮-৬৯ সালে, লাহোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচে। তখন তার বয়স ছিল প্রায় ১৯ বছর। সেই ম্যাচই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর থেকে তিনি ধীরে ধীরে পাকিস্তান দলের নিয়মিত সফরসঙ্গী হয়ে ওঠেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে দলকে সমর্থন জানান।

রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হওয়া পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হবে দেশের মাটিতে তার শেষ উপস্থিতি। এরপর বছরের শেষ দিকে ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের টেস্ট সিরিজে শেষবারের মতো গ্যালারিতে বসে দলকে উৎসাহ দেবেন তিনি।

দীর্ঘ এই যাত্রায় চাচা ক্রিকেট শুধু খেলা দেখেই থেমে থাকেননি, বরং বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করেছেন অসংখ্য ক্রিকেট স্মারক। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এসব স্মারক নিয়ে একটি জাদুঘর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। যেখানে সংরক্ষণ করা হবে তার সংগ্রহ করা ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নগুলো।

ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসা কতটা গভীর, তা বোঝা যায় তার কথাতেই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি সবকিছু করেছেন শুধুমাত্র খেলা এবং নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে। তার লক্ষ্য ছিল দেশের একজন ভালো দূত হওয়া এবং দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া। শুধু তাই নয়, অবসরের পর সমাজসেবামূলক কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

চাচা ক্রিকেটের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হলো ১৯৮৬ সালে ভারতের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ, যেখানে জাভেদ মিয়াঁদাদ শেষ বলে ছক্কা মেরে পাকিস্তানকে জয় এনে দেন। সেই ম্যাচে তিনি মাঠে উপস্থিত ছিলেন এবং এখনো স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন, কীভাবে বলটি ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হয়েছিল।

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রায় ৫০০ ম্যাচে উপস্থিত থেকে সমর্থন দেওয়ার লক্ষ্য পূরণ করতে পেরে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তার এই অর্জন তাকে ক্রিকেটবিশ্বে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

সবশেষে বলা যায়, চাচা ক্রিকেট শুধু একজন সমর্থক নন, তিনি ক্রিকেটের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ। তার বিদায়ের মাধ্যমে একটি যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তবে তার স্মৃতি এবং অবদান ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
স্কুলব্যাগে লুকানো ছিল রিমোট কন্ট্রোল বোমা, ফরিদপুরে বড় বিপদ

স্কুলব্যাগে লুকানো ছিল রিমোট কন্ট্রোল বোমা, ফরিদপুরে বড় বিপদ