দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়নি।
রবিবার (৩১ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ১ হাজার ৩৭৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময়কালে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৯৩৬ জনে। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর মধ্যে বড় একটি অংশই শিশু।
এছাড়া একই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬ হাজার ৮৮৬ জন রোগী। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫২ হাজার ৮৪১ জন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৫ জনে। অন্যদিকে, নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯০ জনে পৌঁছেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৩ জন রোগীর হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৯ জনে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়া মানে পরিস্থিতির ওপর আরও নজরদারি বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, তাই টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাম সাধারণত একটি সংক্রামক ভাইরাল রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তার রোধে নিয়মিত টিকাদান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক