মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান ‘ডুমসডে’ শব্দ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি শুধু সামরিক নয়, বরং কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির অংশ হিসেবেও বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে এফ-১৫, এফ-১৬, এ-১০ যুদ্ধবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও ট্যাঙ্কার বিমানে আঘাতের কথাও বলা হয়েছে।
তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো আন্তর্জাতিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবুও এই ধরনের বক্তব্য চলমান সংঘাতের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ডুমসডে’ শব্দটি। সাধারণভাবে ‘ডুমসডে’ বলতে এমন এক চরম পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে পারমাণবিক যুদ্ধ বা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা তৈরি হয়। এটি শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ভয়াবহ ধারণা।
এদিকে ‘ডুমসডে’ প্রসঙ্গ উঠতেই আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিমান ‘ডুমসডে প্লেন’। বোয়িং ই-৪বি নাইটওয়াচ নামে পরিচিত এই বিমানটি মূলত একটি ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার। যুদ্ধ বা বিশেষ করে পারমাণবিক হামলার মতো সংকটকালীন পরিস্থিতিতে এটি আকাশ থেকেই সরকার পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।
এই বিমানে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যা মাটির সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলেও কার্যকর থাকে। ফলে এটি জরুরি পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডকে সচল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
সম্প্রতি দীর্ঘ প্রায় ৫১ বছর পর লস অ্যাঞ্জেলেসের আকাশে এই বিশেষ বিমান দেখা যাওয়ায় নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সাধারণত এই ধরনের বিমান জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যায়। ফলে এর উপস্থিতি অনেকের কাছে অস্বাভাবিক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি অফাট এয়ার ফোর্স বেস থেকে উড্ডয়ন করে বিভিন্ন স্থানে গিয়েছে। এই ধরনের চলাচল অনেক সময় সামরিক প্রস্তুতি বা কৌশলগত মহড়ার অংশ হিসেবেও হয়ে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতে শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করাও একটি বড় কৌশল। ‘ডুমসডে’ শব্দের ব্যবহার এবং বিশেষ বিমানের উপস্থিতি সেই চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চয়তায় ঘেরা। বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলছে।
কসমিক ডেস্ক