গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলায় তিনটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। প্রশাসনিক কাঠামো আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত নিকার-এর ১১৯তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে এটি নিকার-এর প্রথম সভা।
সভা সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলায় ‘পূর্বাচল উত্তর’, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ‘পূর্বাচল দক্ষিণ’ এবং কক্সবাজার জেলায় ‘মাতারবাড়ী’ নামে তিনটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতেই এসব থানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলাকে বিভক্ত করে আরও একটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাবও সভায় অনুমোদন পায়। এতে স্থানীয় জনগণের সেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিকার সভায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে সরকারের রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিশীলতা বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত অন্যতম। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ একীভূত করে নতুনভাবে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ পুনর্গঠন করা হবে। এতে স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সমন্বয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম Ministry of Women and Children Affairs (MoWCA) অপরিবর্তিত থাকবে।
সভায় পরিবেশগত গুরুত্ব, বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলার ‘ভুল্লী’ থানার নামের বানান সংশোধন করে ‘ভূল্লী’ করার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
সভায় অর্থ এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ছয়জন উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবসহ মোট ১৪ জন সচিব ও সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিকার সভার এসব সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি নাগরিক সেবা ও শাসনব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কসমিক ডেস্ক