ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গভীর রাতে গরু চুরির চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে একটি ট্রাক ফেলে পালিয়ে গেছে চোরচক্র। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী চুরির কাজে ব্যবহৃত ওই ট্রাকটি পুড়িয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সারুকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় কেউ আহত না হলেও এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর খান জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চোরেরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, রাতের নিরবতা ভেঙে কয়েকজন ব্যক্তি সারুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রণ গোপালের বাড়ির গোয়াল ঘরে প্রবেশ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল গরু চুরি করে দ্রুত ট্রাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া। চোরেরা আগেই একটি ট্রাক নিয়ে এসে বাড়ির কাছাকাছি অবস্থান নেয়, যাতে গরু নিয়ে সহজেই সরে পড়া যায়।
তবে চোরেরা যখন গোয়াল ঘরে ঢোকে, তখন বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে যান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন জেগে ওঠে এবং দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসে। প্রতিবেশীদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং কোনো গরু নিতে না পেরে দিকবিদিক ছুটে পালিয়ে যায়।
পালানোর সময় চোরেরা তাদের সঙ্গে আনা ট্রাকটি ফেলে রেখে যায়। ঘটনার পর গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গরু চুরি ও চোরচক্রের তৎপরতায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই উত্তেজিত জনতা ট্রাকটি রাস্তার পাশের একটি ঢালে ফেলে দেয় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রাকটি আগুনে পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে ট্রাকটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানায়। তবে চোরেরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় বা অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর খান বলেন, “এলাকার লোকজন জড়ো হলে চোরেরা পালিয়ে যায়। তারা যে ট্রাকটি ফেলে রেখে গিয়েছিল, সেটি পরে গ্রামবাসী পুড়িয়ে দেয়। আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালথা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে গরু চুরির ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে গভীর রাতে চোরচক্র সক্রিয় হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় তারা ট্রাক বা পিকআপ ব্যবহার করে দ্রুত গরু নিয়ে পালিয়ে যায়। এ কারণে গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন।
একাধিক বাসিন্দা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করলে এ ধরনের ঘটনা কমানো সম্ভব। তারা আরও বলেন, যদিও চোরচক্রকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়নি, তবে ট্রাকটি পুড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এলাকাবাসী তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে কেউ কেউ এটাও মনে করছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে চোর ধরিয়ে দেওয়াই সঠিক পথ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, চুরি প্রতিরোধে জনসচেতনতা এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশে খবর দিলে চোরদের আটক করা সহজ হয়। একই সঙ্গে রাতের বেলায় গ্রাম পাহারার ব্যবস্থাও জোরদার করার পরামর্শ দেন তারা।
ঘটনার পর সারুকদিয়া গ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুটা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চোরচক্র শনাক্তে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
সব মিলিয়ে, সালথায় গরু চুরির চেষ্টা এবং পরবর্তী সময়ে ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা আবারও গ্রামাঞ্চলে চুরি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।