নখ কামড়ানো অনেক শিশুর মধ্যেই দেখা যায় একটি সাধারণ অভ্যাস হিসেবে। অনেক সময় এটি অবচেতনভাবে হয়ে থাকে, ফলে অভিভাবকেরাও বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস মোটেই নিরীহ নয়। বরং এটি শিশুর শরীরে নানা ধরনের জীবাণু প্রবেশের একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে, যা থেকে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নখের নিচে ও চারপাশে সাধারণত নানা ধরনের ময়লা জমে থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। এই ময়লার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু। শিশু যখন নখ কামড়ায়, তখন এসব জীবাণু সরাসরি মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়।
নখ কামড়ানোর অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। নখের মধ্যে থাকা ই-কোলাই, সালমোনেল্লা এবং স্ট্যাফাইলোকক্কাসের মতো ব্যাকটেরিয়া সহজেই শিশুর পেটে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে পেটের নানা সমস্যা, ডায়রিয়া কিংবা খাদ্যনালীর সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এসব সংক্রমণ কখনো কখনো গুরুতর আকারও ধারণ করতে পারে।
শুধু ব্যাকটেরিয়াই নয়, নখের মাধ্যমে ভাইরাস ও কৃমিও শরীরে ঢুকতে পারে। সর্দি-কাশির জন্য দায়ী অ্যাডিনোভাইরাস কিংবা পিনওয়ার্মের মতো কৃমির ডিম নখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। এর ফলে শিশুদের বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া, পেটের সমস্যা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
নখ কামড়ানোর কারণে আঙুলেরও ক্ষতি হয়। অনেক সময় নখের পাশের চামড়া ছিঁড়ে যায়, সেখানে রক্ত জমে এবং পরে পুঁজ তৈরি হতে পারে। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিদ্যায় ‘প্যারোনাইকিয়া’ বলা হয়। এটি বেশ ব্যথাদায়ক এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
এছাড়া দাঁতের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বারবার নখ কামড়ানোর ফলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যেতে পারে, যা দাঁতকে দুর্বল করে তোলে। একই সঙ্গে মাড়িতে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
এই অভ্যাস থেকে শিশুদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, শিশুর নখ সবসময় ছোট ও পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে নখে ময়লা জমে না থাকে। দ্বিতীয়ত, শিশু কেন নখ কামড়াচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। অনেক সময় উদ্বেগ, একঘেয়েমি বা মানসিক চাপে শিশুরা এই অভ্যাস গড়ে তোলে।
শিশুকে ধীরে ধীরে এই অভ্যাস থেকে সরিয়ে আনতে ইতিবাচক পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। তাকে সরাসরি বকাঝকা না করে বরং অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। যেমন—খেলা, আঁকাআঁকি বা সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। প্রয়োজনে নখে তিতা স্বাদের নিরাপদ কোনো পদার্থ ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে নখ মুখে নেওয়ার প্রবণতা কমে।
সবশেষে বলা যায়, নখ কামড়ানো অভ্যাসটি ছোট মনে হলেও এর প্রভাব বড় হতে পারে। তাই শুরু থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করা এবং শিশুদের সঠিক অভ্যাসে অভ্যস্ত করে তোলা জরুরি