জামালপুর জেলার Madarganj উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নে মর্মান্তিক এক ঘটনায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে হুমায়রা নামে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (০৩ জুন) দুপুরে বীর নাদাগাড়ী এলাকায় এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
নিহত হুমায়রা স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন শেখের মেয়ে। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তানকে এভাবে হারিয়ে পরিবারটি গভীর শোকে ভেঙে পড়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে হুমায়রা নিজ ঘরের খাটে বসে মোবাইল দেখছিল। এসময় তার বাবা-মা এবং দাদা-দাদি বাড়ির পাশের জমিতে ধানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ঘরে একা থাকা অবস্থায় খাট থেকে নামার সময় একটি বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়।
সাপের কামড় খাওয়ার পর শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে তার দাদা কামাল শেখ দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসেন। তখন হুমায়রা জানায়, একটি বড় সাপ তার পায়ে কামড় দিয়েছে। ঘটনাটি শোনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করেন।
প্রথমে স্থানীয় প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী তার পায়ে বাঁধন দিয়ে কাছের এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দ্রুত তাকে Madarganj Upazila Health Complex-এ নেওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবু রায়হান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকায় আগেও সাপের দেখা মিলেছে, তবে এভাবে ঘরের ভেতরে ঢুকে শিশুকে কামড়ানোর ঘটনা খুবই বিরল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বালিজুড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ বলেন, হুমায়রা তার আত্মীয়ের মেয়ে এবং অত্যন্ত শান্ত ও মিশুক স্বভাবের ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় গ্রামীণ এলাকায় কুসংস্কার বা দেরির কারণে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তাই এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সাপের কামড়কে অবহেলা করা যাবে না এবং সচেতনতার বিকল্প নেই। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনেরও এ বিষয়ে আরও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
কসমিক ডেস্ক