চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা রেলস্টেশন এলাকায় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা খুলনা কেওয়ান আপ তেলবাহী ট্রেনের চারটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়েছে। স্টেশনে পৌঁছানোর মুহূর্তেই দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে রেল যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সকাল ১০টার দিকে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আমনুরা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার হাসিবুল হাসান জানান, “আমনুরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আনা তেলবাহী ট্রেনটির চারটি ওয়াগন স্টেশনে পৌঁছানোর সময়ই লাইনচ্যুত হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”
এই দুর্ঘটনার প্রভাব পড়েছে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর স্টেশনে, যেখানে রাজশাহীগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকা পড়ে। ফলে ওই রুটে ট্রেন চলাচলে সাময়িকভাবে বিঘ্ন দেখা দেয়। স্থানীয় যাত্রীরা জানিয়েছেন, রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি একই ট্রেনের দুটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একই ধরনের দুর্ঘটনা এ অঞ্চলে পুনরায় ঘটার কারণ হিসেবে রেল পৃষ্ঠের দুর্বলতা এবং তেলবাহী ট্রেনের অতিরিক্ত ওজনকে দায়ী করা হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেলবাহী ট্রেনের এই লাইনচ্যুত ঘটনা পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, লাইনচ্যুত ওয়াগনগুলি সরানোর পর দ্রুত রেল রুট পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
যাত্রী ও স্থানীয়দের জন্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বন্ধ থাকা রুট খুলে দেওয়া হবে। তেলবাহী ট্রেনের ওয়াগন লাইনচ্যুতির ফলে পরিবহন নিরাপত্তা ও দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
স্থানীয় রেল কর্মকর্তা ও যাত্রীরা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হবে এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সঙ্গে তেলবাহী ট্রেন পরিচালনা করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেলবাহী ট্রেনের লাইনচ্যুতির ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়ায় রেলওয়ে ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকায় তেলবাহী ট্রেন চলাচলকে আরও নিরাপদ করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।