বাগেরহাটে বিএনপির মনোনয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই নেতা, তৃণমূলে তীব্র অসন্তোষ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বাগেরহাটে বিএনপির মনোনয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই নেতা, তৃণমূলে তীব্র অসন্তোষ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 22, 2025 ইং
বাগেরহাটে বিএনপির মনোনয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই নেতা, তৃণমূলে তীব্র অসন্তোষ ছবির ক্যাপশন: বাগেরহাটে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদ ও আলোচনা। —ফাইল ছবি
ad728

বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর দলটির অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনের দুজন প্রার্থী অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এ তথ্য সামনে আসতেই তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল এবং বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সোমনাথ দে। দুজনই মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের নেতৃত্বে রয়েছেন এবং অতীতে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করা ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে সদ্য দলে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে ‘হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতৃত্বের’ উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

বাগেরহাট-১ আসনের একজন বিএনপি কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা দমন-পীড়নের মুখে থেকেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে এমন মনোনয়ন দলীয় মনোবল ভেঙে দিয়েছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম আকরাম হোসেন জানান, প্রার্থী মনোনয়ন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে কিছু করার সুযোগ সীমিত। তবে তৃণমূলের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, আওয়ামী লীগের পদধারী ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, দলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতার অভাব ছিল না।

এদিকে বাগেরহাট-২ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মশালমিছিল বের করে বিএনপির একটি অংশ। বিক্ষোভকারীরা সাবেক সভাপতি এম এ সালামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান এবং দাবি পূরণ না হলে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

মনোনয়নপ্রাপ্ত দুই প্রার্থী অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কারণেই বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল এবং দলীয় নেতৃত্ব সবকিছু জেনেই তাঁদের মনোনীত করেছে।

সব মিলিয়ে বাগেরহাটে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে যে অস্বস্তি ও বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা আসন্ন নির্বাচনে দলটির জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাব: আসি

ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাব: আসি