এক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০% শিক্ষক অবৈধ নিয়োগে! The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০% শিক্ষক অবৈধ নিয়োগে!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 3, 2026 ইং
এক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০% শিক্ষক অবৈধ নিয়োগে! ছবির ক্যাপশন:

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় জাল সনদের বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) পরিচালিত সাম্প্রতিক যাচাই অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তদন্ত চালিয়ে দেখা গেছে, কর্মরত ৬৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫৭ জনের সনদই প্রাথমিকভাবে জাল বলে শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনিক তদন্তাধীন থাকায় প্রতিষ্ঠানের নাম আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।

ডিআইএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সনদ যাচাইয়ে দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে—সরাসরি তথ্য যাচাই এবং কিউআর কোড স্ক্যানিং। কোনো সনদ সন্দেহজনক মনে হলে সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা সনদপ্রদানকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হয়। লিখিতভাবে জাল প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বেতন বন্ধ করা হয় এবং অবৈধভাবে নেওয়া সরকারি অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু জাল সনদই নয়—ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ, অনুমোদনহীন বিষয়ে নিয়োগ এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মও রয়েছে। এমনকি একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে আরও যাচাই প্রয়োজন।

ডিআইএ সূত্র মতে, প্রথম ধাপে ১ হাজার ৭৭২ জন জাল সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর বাইরে গত এক বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ৩৩০ জন এবং মাদরাসা খাতে ১৩৬ জনসহ মোট ৪৬৬ জনের জাল সনদ নতুন করে শনাক্ত হয়েছে। গত ১৮ মাসে ডিজিটাল ও সরাসরি যাচাই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ নতুন জাল সনদের তথ্য পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, শনাক্তের পর বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই আসে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সময় লাগে। জনবল সংকট ও ফাইলজটের কারণেও তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ডিআইএ’র একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রাথমিকভাবে অনেক অনিয়ম ধরা পড়লেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা যায় না। কারণ, একটি সনদ বা নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একাধিক সংস্থার যাচাই প্রয়োজন হয়।

ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, জাল সনদ শনাক্তে নিয়মিতভাবে কাজ চলছে এবং আগের তুলনায় এখন বেশি অনিয়ম সামনে আসছে। সন্দেহজনক সনদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে জাল প্রমাণিত হলে তা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরবর্তী ধাপে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার একটি কার্যকর প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে শিক্ষা খাতে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এদিকে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) চালু হওয়ার পর কিছুটা উন্নতি হলেও জালিয়াতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে মত সংশ্লিষ্টদের। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে শুধু শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়—দ্রুত ও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংগীতের ভাষায় ভোটের আহ্বান, ফুলবাড়ীতে জাসাসের ব্যতিক্রমী প্

সংগীতের ভাষায় ভোটের আহ্বান, ফুলবাড়ীতে জাসাসের ব্যতিক্রমী প্