দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য প্রশংসিত চরিত্র উপহার দিয়েছেন বলিউডের জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী। শক্তিশালী অভিনয়, বাস্তবধর্মী চরিত্র এবং গভীর আবেগের জন্য তিনি দর্শকদের কাছে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে সফলতার শিখরে পৌঁছেও তিনি স্বীকার করেছেন, মাঝে মাঝে অভিনয় ছাড়ার চিন্তা তার মনে এসেছে।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন এবং জীবনের না-পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।
মনোজ বাজপেয়ী জানান, গত প্রায় এক দশক ধরে তিনি একাধিকবার অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার কথা ভেবেছেন। তবে নতুন কোনো চরিত্রের প্রতি আকর্ষণ তাকে বারবার অভিনয়ে ফিরিয়ে এনেছে। তার ভাষায়, অভিনয় তার কাছে শুধুই জীবিকা নয়, বরং চরিত্রকে উপভোগ করার একটি শিল্পমাধ্যম।
তিনি বলেন, “সত্যি বলতে কি, প্রায় ১০ বছর ধরে মাঝে মাঝেই আমার অভিনয় ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করেছে। কিন্তু তারপর একটা নতুন চরিত্র আসে, আর আমি চলে যাই। তাই আমি বাধ্য হয়ে অভিনয় করি না।”
তিনি আরও জানান, তিনি কখনোই শুধুমাত্র আর্থিক প্রয়োজনের কারণে অভিনয় করেন না। বরং কোনো চরিত্র তাকে আকৃষ্ট করলে তবেই তিনি সেটি গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, তিনি এমন কাজ করতে চান যেখানে চরিত্র উপভোগ করা যায়, চাপ বা বাধ্যবাধকতার কারণে নয়।
আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বর্তমান চলচ্চিত্র জগতের পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, এখন দর্শক ও নির্মাতারা আবারও মৌলিক গল্পের দিকে ফিরছেন, যা সিনেমার জন্য ইতিবাচক দিক।
মনোজ বাজপেয়ী আরও বলেন, তিনি বর্তমানে একটি বাণিজ্যিক সিনেমায় কাজ করার জন্যও আগ্রহী। তার ভাষায়, হালকা কমেডি, গান ও নাচ—এই ধরনের সিনেমার প্রতি তার আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এমন সিনেমায় কাজ করলে বেশি চাপ না নিয়ে শুধুমাত্র উপভোগ করা যায়।
জীবনের অর্জন ও ত্যাগের প্রসঙ্গেও তিনি আবেগপ্রবণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, অভিনয়জীবনের সফলতার পেছনে অনেক ব্যক্তিগত ত্যাগ রয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে না পারার আক্ষেপ তাকে এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়।
তিনি বলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের সময় তিনি পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেননি। এমনকি তাদের মৃত্যুর সময়ও তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না বলে জানান। জীবনের সেই অধ্যায়গুলো এখন তার জন্য গভীর অনুশোচনার বিষয়।
গ্রাম থেকে উঠে আসা এবং বোর্ডিং হাউসে থেকে বড় হওয়া জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন মনোজ বাজপেয়ী। দিল্লিতে এসে ইংরেজি শেখা, শহুরে জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিজের খরচ চালানোর সংগ্রাম তাকে গড়ে তুলেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, জীবনের কঠিন সময়ে বন্ধুদের সহায়তাই তাকে টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু সেই সংগ্রামের পথে পরিবার থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছে অনেকটাই।
সবশেষে তিনি বলেন, জীবনের অনেক অর্জনের পরও এখনো মাঝে মাঝে মনে হয়—এই সব ত্যাগ আদৌ সার্থক ছিল কি না। সময়ের সঙ্গে তিনি মৃত্যুর বাস্তবতাও উপলব্ধি করেছেন এবং জীবনের শেষ পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এই অকপট স্বীকারোক্তির মাধ্যমে মনোজ বাজপেয়ী আবারও প্রমাণ করেছেন, পর্দার আড়ালের জীবনও অনেক সময় গভীর আবেগ, আক্ষেপ ও বাস্তবতার মিশ্রণ।
কসমিক ডেস্ক