কুড়িগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ আটকে রাখার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর দাফন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কুড়িগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ আটকে রাখার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর দাফন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 19, 2026 ইং
কুড়িগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ আটকে রাখার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর দাফন ছবির ক্যাপশন:

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সম্পত্তি বণ্টন সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের কারণে এক বাবার মরদেহ প্রায় ৩০ ঘণ্টা আটকে রাখার পর অবশেষে দাফন করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্ট্যাম্পে লিখিত সমঝোতা ও উভয় পক্ষের স্বাক্ষরের পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পয়ড়াডাঙ্গা বাজার এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, বিষয়টি পারিবারিক হলেও মৃত ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা করা সবার আগে প্রয়োজন ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজিজার রহমান (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন। পরের দিন সকাল ১১টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে এলাকায় মাইকিং করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজিজার রহমানের প্রথম স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে মনভোলা ওরফে আব্দুল হাকিম (৫৫) এবং তিন মেয়ে – জোসনা, ময়না ও কাছুয়া। প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে তিনি রহিমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে টাইগার (৩৩) ও এক মেয়ে আকলিমা (৩০) জন্মগ্রহণ করেন।

জীবদ্দশায় আজিজার রহমান তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের নামে লিখে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের সঙ্গে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকাবাসী জানাজায় অংশ নিতে এলে প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা জানাজায় আপত্তি জানান। তাদের দাবি ছিল, বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি সমানভাবে বণ্টন ও প্রয়োজনীয় দলিল সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তারা জানাজা ও দাফন করতে দেবেন না।

সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয়রা বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতার পর অবশেষে স্ট্যাম্পে লিখিত সমঝোতা এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষরের মাধ্যমে সমাধান হয়। রাত ১১টার পরে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

প্রতিবেশী আমিনুর রহমান, আব্দুল আলী ও আব্দুল মালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা। তাদের মতে, পারিবারিক বিষয় থাকলেও মৃত ব্যক্তির সম্মান রক্ষা করা সবার আগে প্রয়োজন।

পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর আইনি ও সামাজিকভাবে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। এ ঘটনায় এলাকার অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ ঘটনা কেবল স্থানীয়ভাবে নয়, সামাজিকভাবে ও আইনি দিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ নজর কেড়েছে। বিষয়টি দেখিয়েছে যে পারিবারিক বিরোধ কখনও কখনও মর্যাদা ও সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয়দের মতে, মরদেহ দাফনের আগে এই ধরনের বিষয়গুলো সময়মতো সমাধান করা প্রয়োজন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হবিগঞ্জ-৪ আসনে বড় ব্যবধানে হার তাহেরীর

হবিগঞ্জ-৪ আসনে বড় ব্যবধানে হার তাহেরীর