তিন দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে Bangladesh Bank-এর সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা দাবি জানান, আমানতের পূর্ণ অর্থ ও চুক্তি অনুযায়ী মুনাফা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে সড়কে অবস্থান নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত আমানতকারীদের জন্য অন্যায্য ও অমানবিক। অনেক আমানতকারী গত দুই বছর ধরে তাদের মূলধন ও মুনাফা তুলতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে হবে। একইসঙ্গে অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবি তোলেন তারা।
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, এফডি, ডিপিএস ও এমটিডিআরসহ মেয়াদোত্তীর্ণ সঞ্চয়পত্রের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অর্থ আটকে থাকায় অনেক পরিবার চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দেন। দাবি আদায় না হলে আগামী ১২ মার্চ Bangladesh Bank ঘেরাও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তারা।
মতিঝিল এলাকায় এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আমানতকারীদের দাবি, ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি হলে তা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই বিক্ষোভ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আমানতকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং ঘোষিত কর্মসূচির আগে কোনো সমাধান আসে কি না।
কসমিক ডেস্ক