ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর অফিসে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে আগুন লাগার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা ঘটেছে সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা বাজারে।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির কবির হোসেন অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী প্রতিহিংসার কারণে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে অফিসে আগুন দিতে পারে। তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
ঝালকাঠি-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক বলেছেন, নির্বাচনের মাত্র দুদিন বাকি থাকা অবস্থায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিএনপি প্রার্থীর লোকজন এই অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দাবি করেন, যাদের এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা আছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
অপরদিকে, ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নে দাড়িপাল্লার দুই কর্মীর দোকান পুড়ে যাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের ধারণা, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যে অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না।
অগ্নিসংযোগের ফলে অফিসের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, যাতে নির্বাচনী পরিবেশে আরও কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের ঘটনা এলাকার রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তদন্তে জোর দিচ্ছে, যাতে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
মোটের ওপর, ঝালকাঠিতে জামায়াতের অফিসে আগুনের ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বেড়েছে। প্রার্থী ও স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
কসমিক ডেস্ক