ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা এবং তার কর্মীদের মারধরের ঘটনায় ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রুমিন ফারহানার এক কর্মী আহাদ সরাইল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য ও সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও চারজনের নাম উল্লেখ করে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এই ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই এবং মামলা সম্পর্কেও জানি না।”
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, “মামলার এজাহারে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এছাড়া ১৪০-১৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি ঘটেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে। রুমিন ফারহানা তার সংসদীয় এলাকায় শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে বাধা ও হুমকির মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে থাকা কর্মীদেরও মারধর করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে ফুল অর্পণ করতে না পেরে ফিরে যেতে হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। শহীদ মিনারে আগত সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে সরব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।
রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন তার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।
এ ধরনের ঘটনা দেশব্যাপী নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হিংসার অভিযোগ রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, শান্তি বজায় রাখা ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানা আইনজীবী ও সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিত। তিনি নারী নেতৃত্ব এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়। এই ধরনের ঘটনা তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সংসদীয় দায়িত্ব পালনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
সরাইল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ যথাযথ তদন্ত করছে।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্তব্য পালন উভয়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, ব্যক্তি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়গুলো মিলিয়ে পরিস্থিতি সংবেদনশীল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কসমিক ডেস্ক