কর্মীদের নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রথম আলো নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কর্মীদের নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রথম আলো নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 26, 2026 ইং
কর্মীদের নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রথম আলো নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি ছবির ক্যাপশন: প্রথম আলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে সাবেক কর্মীর বইয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে

দৈনিক প্রথম আলোর প্রশাসনিক বিভাগ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে একটি নতুন বইয়ে। লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং প্রথম আলোর সাবেক ফটোসাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সুদীপ্ত সালাম তার বই ‘ফটোসাংবাদিকের জার্নাল : প্রথম আলোর অন্দরমহল’-এ সংবাদমাধ্যমটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।

বইটিতে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বাইরে থেকে সমাজের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করলেও ভেতরে তাদের প্রশাসনিক কাঠামোতে কর্মীদের প্রতি অবহেলা ও অসংগত আচরণের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার কিছু ঘটনা বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, মহামারির সময় প্রথম আলোর প্রশাসনিক প্রধান উৎপল কুমার চক্রবর্তী সাংবাদিক ও কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা ঘিরেই পরে বিতর্ক তৈরি হয়।

সুদীপ্ত সালাম তার লেখায় উল্লেখ করেন, সাংবাদিক শামসুর রহমান আদিল ওই ই-মেইলের জবাবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তোলেন। তার অভিযোগে বলা হয়, অফিসে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য রাখা স্যানিটাইজারের বোতলে ভিন্ন ও নিম্নমানের রাসায়নিক ব্যবহার করা হতো, যা কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

তিনি দাবি করেন, স্যানিটাইজার বদল করে ব্যবহার করা হলেও বিষয়টি প্রশাসন জানত। এমনকি অফিসের বিভিন্ন তলায় একই ধরনের ব্যবস্থা চালু ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।

বইটিতে আরও বলা হয়েছে, এই অভিযোগ সামনে আসার পর অনেক সাংবাদিকও প্রতিক্রিয়া জানান। কেউ কেউ ত্বকের সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন বলে দাবি করা হয়। তবে প্রশাসনিক পক্ষ এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়নি এবং বিষয়টি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করে।

লেখকের মতে, এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলেও চাকরি হারানোর আশঙ্কায় অনেকে পরে নীরব হয়ে যান। পরবর্তীতে বিষয়টি ‘অফিসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে’—এই যুক্তিতে ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুদীপ্ত সালাম আরও দাবি করেন, প্রশাসনিক বিভাগের প্রভাব প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং অনেক সিদ্ধান্তে তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। বইটিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে এমন একটি বিভাগ এত ক্ষমতাশালী হয়ে উঠল এবং এর দায়ভার কার ওপর বর্তায়।

তিনি আরও লেখেন, কর্মীদের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ না আসায় অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ আরও বাড়ে। বইটিতে সম্পাদকীয় ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনামূলক আলোচনা রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বইটিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

সব মিলিয়ে বইটি প্রকাশের পর প্রথম আলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক মহল ও পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার