ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। সংসদ সদস্য (এমপি) হলে কী ধরনের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য যে সুবিধাগুলো পান তা হলো—
-
মাসিক বেতন: ৫৫ হাজার টাকা
-
নির্বাচনী এলাকা ভাতা: প্রতি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা
-
সম্মানী ভাতা: মাসে ৫ হাজার টাকা
-
শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুবিধা
-
মাসিক পরিবহন ভাতা: ৭০ হাজার টাকা
-
নির্বাচনী এলাকায় অফিস খরচ: মাসে ১৫ হাজার টাকা
-
লন্ড্রি ভাতা: মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা
-
ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ ভাতা: মাসে ৬ হাজার টাকা
-
অভ্যন্তরীণ বার্ষিক ভ্রমণ খরচ: ১ লাখ ২০ হাজার টাকা
-
স্বেচ্ছাধীন তহবিল: বছরে ৫ লাখ টাকা
-
বাসায় টেলিফোন ভাতা: মাসে ৭ হাজার ৮০০ টাকা
-
সংসদ ভবন এলাকায় এমপি হোস্টেলে থাকার সুবিধা
এ ছাড়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একজন সংসদ সদস্য প্রতি বছর ৪ কোটি টাকা করে থোক বরাদ্দ পেয়েছেন, যা আগে ছিল ২ কোটি টাকা।
সংসদ সদস্যদের সাংবিধানিক প্রধান দায়িত্ব আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করা। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, বাস্তবে তাদের ভূমিকা প্রশাসনিক ও নির্বাহী ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা আইন প্রণয়নে সীমাবদ্ধ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা প্রশাসনিক ও নির্বাহী ক্ষমতায় রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, বয়স্ক ভাতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রায় ৪০ ধরনের প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে কারা সুবিধা পাবেন, তা অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সম্মতির ওপর নির্ভর করে থাকে বলে মত বিশ্লেষকদের।
এ ছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমেও সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা থাকে। অতীতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ওপর প্রভাব বিস্তারের বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক