মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে নতুন করে হামলা না চালানোর ঘোষণা দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হামলা স্থগিত রাখার আশ্বাস দেওয়ার পর প্রবাসীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শনিবার দেওয়া এক ঘোষণায় ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানের দিকে কোনো হামলা না হলে সেসব দেশে পাল্টা হামলা স্থগিত রাখার একটি প্রস্তাব তাদের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ অনুমোদন করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ইরানের এই ঘোষণার পরও কিছু এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে পুরোপুরি শান্ত হয়নি বলেই ইঙ্গিত দেয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে তাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে ইরানের সাম্প্রতিক ঘোষণায় অনেকেই কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন।
আল আইনে বসবাসকারী আবাসন ব্যবসায়ী ও সিআইপি শেখ ফরিদ বলেন, “ইরান আশ্বস্ত করেছে হামলা না করার ব্যাপারে। আশা করি তারা কথা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “আরব আমিরাত সরকার দেশ এবং জনগণকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা তেমন কোনো আতঙ্ক বা অস্থিরতা অনুভব করছি না। প্রবাসী হিসেবে আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে থাকতে চাই।”
বরিশাল বিভাগ কল্যাণ সমিতির সভাপতি আকতার হোসাইন রাজুও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে এখনো পর্যন্ত ভালো আছি। আমিরাত সরকার প্রবাসীসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ ইরানের প্রেসিডেন্টের আক্রমণ বন্ধের আশ্বাসে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা—সামনের দিনগুলোতে কী হয় তা দেখা যাবে।”
সংযুক্ত আরব আমিরাতে দায়িত্ব পালনরত দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি ফরহাদ হোসাইন বলেন, “যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও আমিরাত সরকার নাগরিকদের পাশাপাশি অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছায়ার মতো পাশে রয়েছে।”
তিনি বলেন, “মানুষের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হামলা বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাতে প্রবাসীরা আশান্বিত হয়েছে।”
এদিকে আবু ধাবির একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোম্পানি ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোরশেদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করছেন এবং কখনো ভাবেননি যে এমন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে।
তিনি বলেন, “পরিবার নিয়ে এখানে আছি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা আগে কখনো ভাবিনি। তবে আজ ইরানের প্রেসিডেন্টের আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
আবু ধাবিতে স্বামীর সঙ্গে বসবাসকারী মেহেরুন্নেছা দীপাও একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ শহর আবু ধাবি আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তাই এই শান্তিপূর্ণ দেশটিকে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে দেখা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমিরাত সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উদ্যোগের পূর্ণ সমর্থন জানাই। ইরানের প্রেসিডেন্ট যে স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন, তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধমুক্ত থাকুক।”
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা থাকলেও সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে হামলা স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও এই উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: রয়টার্স
কসমিক ডেস্ক