মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, ছেলের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান লছমুন রিকমুন (৫০) নামের ওই ব্যক্তি। ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা তার ছেলে বিষ্ণু প্রসাদ রিকমুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার চাতলাপুর চা বাগান এলাকায় বাবা ও ছেলের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে ছেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবার পেটে একাধিক আঘাত করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা লছমুন রিকমুনকে উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেটে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে বিষ্ণু প্রসাদ রিকমুন আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সামান্য বিরোধ কখনো কখনো হঠাৎ করে সহিংস রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে আবেগপ্রবণ পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়, যার পরিণতি হয় ভয়াবহ।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারের ভেতরের বিরোধ এমন ট্র্যাজেডিতে রূপ নেবে তা কেউ কল্পনাও করেননি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে সহিংসতার বদলে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ বা পারিবারিক সংকটের সময় ধৈর্য ও সহনশীলতা হারালে তা বড় ধরনের বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, পারিবারিক কলহের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক রাগ বা আবেগের বশবর্তী হয়ে সহিংস পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তার ফল ভয়াবহ হতে পারে। সুষ্ঠু তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কসমিক ডেস্ক