বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্ক ঘিরে আলোচিত একটি মামলায় অবশেষে খালাস পেলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার নাসির হোসেন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা। প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা এই মামলার রায় বুধবার ঢাকার একটি আদালতে ঘোষণা করা হয়।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম মামলার রায় ঘোষণা করে জানান, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচার বিশ্লেষণে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ফলে আদালত নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এই মামলার সূত্রপাত ঘটে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। সে সময় তামিমা সুলতানার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, বৈধভাবে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন না করেই তামিমা অন্য আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরে বিয়ে করেন, যেখানে ক্রিকেটার নাসির হোসেনও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়। অভিযোগের মধ্যে প্রতারণা, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করা, মানহানি এবং বিয়ের তথ্য গোপনের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।
মামলার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে নাসির, তামিমা এবং তামিমার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করে।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ শুনানি ও প্রমাণ উপস্থাপনের পর আদালত শেষ পর্যন্ত মনে করে, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে মামলাটি খারিজ হয়ে যায় এবং আসামিরা খালাস পান।
ঘটনার পেছনের পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা ও রাকিব হাসানের মধ্যে ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং সেই বিয়ের রেজিস্ট্রিও করা হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার বয়স বর্তমানে প্রায় আট বছর। পরবর্তীতে পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই মামলা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
তামিমা সুলতানা পেশাগতভাবে একজন কেবিন ক্রু হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সৌদি আরবভিত্তিক একটি এয়ারলাইন্সে চাকরি করেছেন বলেও জানা যায়। অন্যদিকে নাসির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সামাজিক ও পারিবারিক বিতর্কের প্রভাব এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলোর জীবনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে বলেও অনেকে ধারণা করছেন।
কসমিক ডেস্ক