ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন (৪০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত আরও আটজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বিকেলে উপজেলার হরিশপুর গ্রামের বড়তলা মাঠে একটি মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে প্রথমে দুই ব্যক্তির মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় পাশের পাখিমারা গ্রামের লাল্টু এবং হরিশপুর গ্রামের শুভ হোসেনের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক এই বিরোধ ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে এবং দুই গ্রামের লোকজন এতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে হরিশপুর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেনসহ অন্তত আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে আবু তালেব এবং পাখিমারা গ্রামের মশা ফকির মাহবুব ও বাদশা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় দেলোয়ার হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান।
নিহত দেলোয়ার হোসেন উপজেলার হরিশপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন মানুষের প্রাণ হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক।
হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত মীমাংসা না হলে তা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে, যা প্রাণহানির মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে। তারা এ ধরনের ঘটনা রোধে সামাজিক সচেতনতা ও স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমাধান ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছেন।
এই ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
কসমিক ডেস্ক