দেশের টেকসই উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তরুণ পেশাজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ পেশাজীবীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রধান শক্তি। তাদের মধ্যে নৈতিক নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং সম্মিলিত দায়বদ্ধতার চর্চা জোরদার করতে পারলে জাতীয় অগ্রগতি আরও সুদৃঢ় হবে।
সোমবার রাজধানীর Six Seasons Hotel-এ আয়োজিত এক নেতৃত্ব সংলাপ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে Forum of Young Professionals (এফওয়াইপি)। দেশের বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, কর্পোরেট প্রতিনিধি ও তরুণ পেশাজীবীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় রূপ নেয়।
তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল মানবসম্পদ। তরুণদের মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং ইতিবাচক মূল্যবোধ চর্চা করতে পারলে দেশ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। তিনি বলেন, আর্থিক সচেতনতা ও উদ্যোক্তা মনোভাব একজন পেশাজীবীকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সামাজিক ক্ষমতায়নে তরুণদের সততা ও পেশাগত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরাম অব ইয়ং প্রফেশনালসের উপদেষ্টা রাশেদ উল হক সরকার। তিনি সংগঠনের দীর্ঘ পথচলা, সাম্প্রতিক অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, নেতৃত্ব বিকাশ ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই সংগঠনের লক্ষ্য। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
নেতৃত্ব সংলাপ পর্বে তরুণ পেশাজীবীদের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে কীভাবে তরুণরা নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এগিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এফওয়াইপির নির্বাচিত সদস্যদের সম্মাননা প্রদান। সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা, অসামান্য অবদান ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকজন সদস্যকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। নেতৃত্বগুণ ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে যারা ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, তাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
পরিশেষে, সম্মিলিত ইফতারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোরাম অব ইয়ং প্রফেশনালস উদীয়মান নেতা ও পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগামীতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
কসমিক ডেস্ক