অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নীরবে দেশ ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। এসবের প্রেক্ষাপটে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ১৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, ফেব্রুয়ারির ৮, ৯ ও ১০ তারিখে আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল তার অফিসিয়াল শেষ কর্মদিবস। ওইদিন সহকর্মীদের সঙ্গে ফেয়ারওয়েল ডিনারেও অংশ নেন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, নির্বাচনের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনি আয়োজনের ক্ষেত্রে তার কিছু অবদান ছিল। সহকর্মীদের কাছ থেকেও যথাযথ বিদায় নিয়েছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।
দেশ ছাড়ার বিষয়ে সমালোচনার জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও সৎ ব্যক্তিকে কটু কথা বলার আগে তথ্য যাচাই করা উচিত। বিদায়ের সময় এক সহকর্মী তাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, দ্রুত একটি চাকরি খুঁজতে হবে। দেশের জন্য কাজ করতে এসে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
দ্রুত দেশ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, তার ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং রয়েছে এবং স্ত্রীর মেডিকেল জরুরি অবস্থা রয়েছে। যথাযথভাবে ছুটি নিয়েই পরিবারের কাছে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, রিটার্ন টিকিট কাটা আছে এবং দীর্ঘ সময় পরিবারকে সময় দিতে না পারার কারণে কিছুদিন তাদের সঙ্গে থাকতে চান।
পোস্টের ‘পুনশ্চ’ অংশে দায়িত্ব পালনকালে নিজের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, একটি দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করেছেন। পুরোনো আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনে ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে দাবি করেন, কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। মোবাইল ব্যবসায়ী ও টেলিকম সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। সবশেষে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
এর আগে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে Emirates–এর একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে তিনি জার্মানির উদ্দেশে রওনা হন। বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, তিনি সেদিন সকালেই দেশ ত্যাগ করেন।
তার দেশত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দায়িত্ব যথাযথভাবে শেষ করেই বিদেশে গেছেন এবং ভবিষ্যতে দেশে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দেশত্যাগ এবং তা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার প্রেক্ষাপটে তার ব্যাখ্যামূলক পোস্ট নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় এনেছে।