মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ১১তম ধাপে ইসরায়েলের বির আস-সাব, যা সাধারণত বিরশেবা নামে পরিচিত, শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে—বিরশেবায় অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি যোগাযোগ শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ভবনটিতে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা—সে বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে বোমাবর্ষণের জবাবে তারা প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া ইসরায়েলের তেল নোফ বিমানঘাঁটি এবং তেল আবিবে অবস্থিত সামরিক কমান্ড সদরদপ্তর হা-কিরিয়া লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে। ইরানি বাহিনী ধাপে ধাপে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছে।
তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের ওপরই নির্ভর করবে প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পাল্টাপাল্টি হামলার দাবির প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে
কসমিক ডেস্ক