নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় চুরি করতে দেখে ফেলায় এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ওই হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত যুবককেও পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাব মোড় এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
ছুরিকাঘাতে নিহত নারীর নাম আমেনা বেগম (৪৫)। তিনি ওই এলাকার মুদিদোকানি বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। আর চুরির অভিযোগ ও নারী হত্যার ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত যুবকের নাম মেহেদী ইসলাম (৩২)। তিনি বিরাব খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, মেহেদী পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম দুটি মৃত্যুর ঘটনাই নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে বাবুল দেওয়ানের নতুন বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেছিলেন মেহেদী। কাজ শেষ হওয়ার চার দিন পর শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে বাড়িটি ফাঁকা পেয়ে তিনি ভেতরে ঢোকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরে থাকা অবস্থায় আমেনা বেগম মুঠোফোন চুরির চেষ্টা করতে দেখে ফেলেন। এ সময় মেহেদী তাকে ছুরিকাঘাত করেন। গলায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত আমেনার চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে মেহেদীকে আটক করেন।
আহত অবস্থায় আমেনা বেগমকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুরি ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ওঠার পর মেহেদীকে বাবুল দেওয়ানের বাড়িতেই বেঁধে রাখা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে আহত নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্তকে গাড়িতে তোলার সময় একদল মানুষ তাকে টেনে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর এলোপাতাড়ি লাথি, কিলঘুষি ও ইটের আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়।
জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন,
“ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই বিক্ষুব্ধ লোকজন এই ঘটনা ঘটায়। আমরা পুরোপুরি কাস্টডিতে নেওয়ার আগেই তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।”
তিনি আরও জানান, দুটি মৃত্যুর ঘটনা প্রায় ৩০ মিনিটের ব্যবধানে ঘটেছে। নিহত আমেনা বেগম ও মেহেদী ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নারী হত্যাকাণ্ড ও গণপিটুনির ঘটনায় পৃথকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পুলিশের হেফাজত থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক