দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ)। রাজধানীর কড়াইল এলাকায় নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রম শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বাইরে দেশের আরও ১৪টি নির্বাচিত এলাকায় এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরকারের সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে এবং নির্দিষ্ট পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সুবিধার আওতায় আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রম সফল হলে পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও তা সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
রাজধানী ঢাকার কয়েকটি বস্তি এলাকাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি এবং ভাষানটেক বস্তিতে বসবাসকারী পরিবারগুলো এই কার্ড পাবেন। এছাড়া একই সিটি করপোরেশনের মিরপুর এলাকার অলিমিয়ারটেক ও বাগানবাড়ী বস্তির বাসিন্দারাও ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন।
ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নেও এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কয়েকটি এলাকাতেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সদর পৌরসভা এর মধ্যে রয়েছে।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নেও এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
খুলনা বিভাগের খুলনা সিটি করপোরেশনের খালিশপুর থানার এলাকাতেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারাও এই কার্ড পাবেন।
সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার কুলঞ্জ ইউনিয়নকেও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দারাও ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন।
রাজশাহী বিভাগের দুটি এলাকাতেও এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। বগুড়া সদর থানার শাখারিয়া ইউনিয়ন এবং নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের পরিবারগুলোকে এই কার্ড দেওয়া হবে।
রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও সদর থানার রহমানপুর ইউনিয়ন এবং দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার জয়পুর ইউনিয়নও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় সহজে আনা সম্ভব হবে। এতে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে শনাক্ত করা এবং তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে তা আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ জোরদার হবে।
কসমিক ডেস্ক