আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের সদস্যদের তালিকা জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইতোমধ্যে দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এবং নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম রোধে নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র-৯ অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সেলের কার্যপরিধি অনুযায়ী গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
ইসির নির্দেশনায় বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সেলের সব সদস্যের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে।
ইসি সূত্র জানায়, পরিপত্র-৯ অনুযায়ী প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন করা হয়েছে। এতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোনীত কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এই সেল নির্বাচনী এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবে।
এছাড়া ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রণয়ন এবং চাঁদাবাজ, মাস্তান ও পরিচিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও সক্রিয় করা হচ্ছে।