সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ বাধ্যতামূলক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ বাধ্যতামূলক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 2, 2026 ইং
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ বাধ্যতামূলক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিই ভাষণ দেবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নতুন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া বাধ্যতামূলক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন—এটি সংবিধানসম্মত বিধান। এখানে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, সরকারের অবস্থান সংবিধান অনুসারেই নির্ধারিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যতিক্রমের সুযোগ নেই।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু আলোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি দেওয়ার ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহরিয়ার কবির প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা এবং তারেক রহমান-এর কাছে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ‘স্পিরিট’ সমুন্নত রাখতে রাষ্ট্রপতিকে উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখা উচিত। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে সংবিধানের বিধান অনুসরণের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। এটি সাংবিধানিক রীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।”

বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির উদ্বোধনী ভাষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা। সাধারণত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সরকারের নীতি, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা তুলে ধরেন। এই ভাষণকে সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উদ্বোধনী ভাষণ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দল বা নাগরিক সমাজের অংশ থেকে নানা দাবি উঠেছে। তবে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ সংসদীয় কার্যক্রমের সূচনাপর্বের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার আইন ও সংবিধান মেনেই সব পদক্ষেপ নেবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চিঠি বা দাবির ভিত্তিতে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

এদিকে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম কীভাবে শুরু হবে এবং উদ্বোধনী অধিবেশনে কী ধরনের বার্তা দেওয়া হতে পারে। নতুন সংসদের সামনে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, সংস্কার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণে এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনই ভাষণ দেবেন—এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান দৃঢ়। এখন অপেক্ষা উদ্বোধনী অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক আয়োজন এবং রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের দিকে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডিএসসিসি প্রশাসক: নগরীতে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না

ডিএসসিসি প্রশাসক: নগরীতে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না