উত্তর কলকাতার পাইকপাড়া এলাকায় শনিবার (৭ মার্চ) ভোর ৬টা ১১ মিনিটে একটি বন্ধ ক্লাব ঘরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ক্লাবের টিনের চাল উড়ে গিয়ে পাশের ছয়তলা আবাসন বা বহুতলের ছাদে পড়েছে। এই ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বের হয় এবং আশেপাশে আতঙ্কের পরিস্থিতি বিরাজ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের সময় বাসিন্দারা ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখনই একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের ধাক্কায় ক্লাবের লোহার গেট উপড়ে অনেক দূরে গিয়ে পড়ে, পাশের বাড়িগুলোর জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে বিস্ফোরণের ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়ে। অনেকেই ভূমিকম্পের মতো অনুভব করে আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বের হন।
ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং বম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্লাবটি ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশের হাতে আসে বেশ কিছু তাজা বোমা। প্রাথমিক ধারণা, দুষ্কৃতিরা এই বন্ধ ক্লাবটিকে বোমা মজুদ করার নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, এলাকার দখলদার ও ‘প্রমোটিং চক্র’ এলাকার নিরাপত্তা নষ্ট করছিল এবং স্থানীয়দের ভয় দেখিয়ে এলাকা খালি করার জন্য ক্লাবে বোমা মজুদ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এছাড়া তারা পাইকপাড়া এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বা পিকেট স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে পুরো এলাকা পুলিশি পাহারায় রয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এলাকার চারপাশে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে।
কলকাতা পুলিশের লালবাজার সদর দপ্তর ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে দুষ্কৃতিরা অবৈধ কার্যক্রম ও বোমা মজুদের জন্য ব্যবহার করছিল। পুলিশ চেষ্টা করছে এই চক্রের সব সদস্যকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার।
এই ঘটনায় পাইকপাড়া ও আশেপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, বিস্ফোরণটি এত বড় ছিল যে এটি শুধু ক্লাব নয়, আশেপাশের মানুষের নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করেছে। এলাকার স্কুল, দোকান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সংক্ষেপে, কলকাতার পাইকপাড়া এলাকায় শনিবার ভোরের ক্লাবঘরে বিস্ফোরণ এবং বোমা উদ্ধার পুরো এলাকাকে আতঙ্কে ফেলেছে। পুলিশি তৎপরতা ও ফরেনসিক তদন্ত চলমান থাকায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে স্থানীয়রা চেয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হোক।
কসমিক ডেস্ক