রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণে ইউক্রেনে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণে ইউক্রেনে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 7, 2026 ইং
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণে ইউক্রেনে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত ছবির ক্যাপশন:

শনিবার (৭ মার্চ) রাতে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ শহরে দুই শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার লক্ষ্য ছিল দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামো ধ্বংস করা।

খারকিভের আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিহুবভ জানান, একটি পাঁচ তলা আবাসিক ভবন সরাসরি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়। এতে দুই শিশু সহ কয়েকজন নিহত হন। এছাড়া সাতটি বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও প্রশাসনিক কার্যালয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা আছে কি না, তা খুঁজে দেখছেন।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া সারাদেশে মোট ৪৮০টি ড্রোন ও ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলায় মধ্য ইউক্রেনের চারটি রেলওয়ে স্টেশন ও ওডেসা অঞ্চলের বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওডেসায় একটি শস্য গুদাম ও ভোজ্যতেল ভর্তি কন্টেইনারে আগুন ধরে যাওয়ায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলেনস্কি রুশ হামলাকে ‘বর্বর’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাশিয়া বেসামরিক নাগরিকদের ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে ইউক্রেনকে পঙ্গু করতে চাইছে। আমরা আন্তর্জাতিক মিত্রদের কাছে অবিলম্বে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত অস্ত্র সরবরাহের দাবি জানাচ্ছি, যাতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়।”

হামলার পর ইউক্রেনের বিভিন্ন সিটি কর্তৃপক্ষ তৎপরভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর আশেপাশের এলাকা অব্যবহৃত ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে আরও লোকপালিক ক্ষতির আশঙ্কা কমানো যায়।

এই হামলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগও প্রকাশ পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো কর্মকর্তারা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইউক্রেনকে সাপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষ করে বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং অবকাঠামোর পুনর্গঠন সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার এই হামলা পূর্বের পরিকল্পিত ও সুপরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা দুর্বল করতে চাচ্ছে। পাশাপাশি, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে রাশিয়া যুদ্ধের ধরণ কঠোর করার চেষ্টা করছে।

ইউক্রেনের সরকারী সূত্র জানায়, হামলার পর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও, এখনও নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর হুমকি রয়েছে। দেশটির উদ্ধার দল, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করছেন।

সংক্ষিপ্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার হামলা বেসামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাপোর্ট এবং উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ছাড়া এ ধরনের হামলার প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা সম্ভব নয়। ইউক্রেন সরকার এই সঙ্কট মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে অগ্রগতি দেখাচ্ছে, তবে নাগরিকদের সুরক্ষা ও নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রশাসন বিএনপিমুখী হচ্ছে বলে অভিযোগ এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীনে

প্রশাসন বিএনপিমুখী হচ্ছে বলে অভিযোগ এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীনে