গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের মতো অন্ধকার অধ্যায়ে বাংলাদেশ যেন আর ফিরে না যায়—সে লক্ষ্যে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে পছন্দের গণপরিষদ সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনকে স্থায়ী করা সম্ভব।
রোববার সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নাগরিক পদক–২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, দেড় বছর আগে ঢাকার রাজপথে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ জীবন ও রক্ত উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে। সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করেছে। তবে এই পরিবর্তনকে টেকসই করতে হলে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
তিনি বলেন, “আমরা সেই বাংলাদেশটাই দেখতে চাই, যে স্বপ্ন আমাদের শহীদরা দেখিয়ে গেছেন। এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে অন্যায় ও বৈষম্যের কোনো স্থান থাকবে না।” তিনি স্বীকার করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে যেটুকু করা গেছে, তা যেন ভবিষ্যতের জন্য স্থায়ী ভিত্তি হয়ে থাকে—সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ভবিষ্যতে যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তাঁদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে আদিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আর কখনো আধিপত্যবাদ কিংবা অন্যায়-অবিচারের কাছে মাথা নত করবে না। এই চেতনার ভিত্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। নাগরিক পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও সমাজ ও রাষ্ট্রকে সেই আদর্শের দিকেই এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ জানান তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান বলেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাভূমি উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে শুধু উদ্ধার করলেই হবে না—সেগুলো সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, লেখক ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
কসমিক ডেস্ক