নওগাঁর মান্দায় চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কওমি মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৩টার দিকে উপজেলার প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামিয়া কওমি মাদরাসার চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম রফিকুল ইসলাম (২৫), যিনি মান্দা সদর ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মাদরাসার ক্বারি শিক্ষক সাব্বির হোসেন জানান, রাত সোয়া ২টার দিকে ছাত্র পারভেজকে নিয়ে সাহরি রান্নার জন্য রান্নাঘরের দিকে যাওয়ার সময় একটি অচেনা যুবক বের হয়। সন্দেহ হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয় এবং গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। হইচই শুনে শিক্ষকরা—আরিফুল ইসলাম, তুহিন হোসেন, ওমর ফারুক ও মোর্শেদ আলম—মর্যাদাহীনভাবে তাকে মারধর চালান। এক পর্যায়ে রফিকুল ইসলাম মারা যান।
মাদরাসার পাশের বাসিন্দা আসলাম হোসেন বলেন, “ফজরের নামাজ আদায় করেছি, কিন্তু মাদরাসার ভেতরে একজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে—এ বিষয় কিছুই জানতাম না।”
মাদরাসার মুহতামিম মাসুদুর রহমান জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মাদরাসায় গিয়ে রফিকুলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কিছু সময় পর তিনি মারা যান।
মান্দা থানার ওসি কে এম মাসুদ রানা বলেন, “সংবাদ পেয়ে মাদরাসার চত্বর থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় রফিকুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্তসহ মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।”
এ ঘটনায় স্থানীয় এবং প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক