পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে টানা ১০ দিনের জন্য আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. শাহিনুর ইসলাম মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৮ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দরের মাধ্যমে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত সংগঠনের একটি জরুরি সভায় গৃহীত হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি ভারতের ব্যবসায়ীদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শাহিনুর ইসলাম মন্ডল বলেন, ঈদের ছুটির সময় বন্দরের সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি ছাড়াও বন্দরের বেসরকারি ওয়্যারহাউজ পানামা পোর্টের অভ্যন্তরে পণ্য লোড ও আনলোড কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।
তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটি শেষে আগামী ২৮ মার্চ থেকে হিলি স্থলবন্দরের সকল কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।
বর্তমানে রমজান মাস উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো ধরনের বাধা থাকবে না।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আসা-যাওয়া স্বাভাবিক থাকবে।
তিনি বলেন, সপ্তাহের সাত দিনই ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু থাকে এবং ঈদের ছুটিতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আমীর হামজা জানান, ঈদের সরকারি ছুটির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।
তবে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অন্যান্য দিনে কাস্টমস অফিসের দাপ্তরিক কাজ স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বন্দরের বেসরকারি ওয়্যারহাউজ পানামা পোর্ট কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ঈদের ছুটির সময় বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তারা জানান, টানা ১০ দিনের ছুটির পর ২৮ মার্চ থেকে বন্দরের কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ছুটি শেষে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হলে হিলি স্থলবন্দর আবারও তার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরে আসবে।
হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বন্দর। এই বন্দরের মাধ্যমে প্রতিদিন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়ে থাকে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরই কিছুদিনের জন্য এই বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
কসমিক ডেস্ক