ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে উঠে এসেছে, তার ধারাবাহিক রাজনৈতিক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট জমা দেওয়ার বিষয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা শাখা) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি একটি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারা সামনে আনেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্য ও তীব্র সমালোচনা করতেন।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, হাদির এসব বক্তব্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সেই ক্ষোভ থেকেই তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মো. শফিকুল ইসলাম জানান, হাদিকে সরাসরি গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার পর তাকে এবং অপর আসামি আলমগীরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী।
ডিবি প্রধান বলেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়, ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী বক্তব্যের ধরন এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণ করে তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে—এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই পরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত শেষ করে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বক্স কালভার্ট এলাকায় রিকশায় করে যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুজন হামলাকারী গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।