নির্বাচনের পর কুষ্টিয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্বাচনের পর কুষ্টিয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 14, 2026 ইং
নির্বাচনের পর কুষ্টিয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ছবির ক্যাপশন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এই আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকার নির্বাচনে হেরে যান। তবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের, যেখানে মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের সমর্থকরা জাকির হোসেনের সমর্থকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িত। নির্বাচনের ফলাফলের পর এই দ্বন্দ্ব হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযোগ ওঠে যে, সোহরাব উদ্দিনের সমর্থকরা দলের প্রার্থীকে সহায়তা না করায় জাকির হোসেনের পরাজয় হয়। এ নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পাশের স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের চায়ের দোকানের প্লাস্টিকের চেয়ারগুলো ভাঙচুর করা হয়।

খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মাতুব্বার বলেন, “বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।”

এদিকে, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলীয় কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে

এই ঘটনা বিএনপির জন্য একটি চেতাবনিমূলক বার্তা বহন করে যে, নির্বাচনে হারের পর অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখা দলকে শক্তিশালী রাখতে অপরিহার্য। বিশেষত শহরের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে দলের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, সাধারণ জনগণ এই ধরনের দাঙ্গা ও হাতাহাতি থেকে বিরক্ত। নির্বাচনের ফলাফলের পর দলের মধ্যে সংহতি ও শান্তিপূর্ণ আচরণ না থাকলে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এই ঘটনার মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপিকে সতর্ক হতে হবে যে, ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এড়িয়ে গিয়ে সংগঠনের ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনের পর দলের নেতৃত্ব এবং সমর্থকদের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা ছাড়া এমন পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

ফলে, কুষ্টিয়া-৩ আসনের এই ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং নেতৃত্বের ওপর চাপের পরিচায়ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সম্মিলিত নেতৃত্ব এবং দায়িত্বশীল সমর্থকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বনানীর পাঁচতলা ভবনে আগুন, কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

বনানীর পাঁচতলা ভবনে আগুন, কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস