চীন যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হতাশাজনক হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ব্যক্তিগতভাবে তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে বেইজিং তেহরানের কাছে কোনো ধরনের অস্ত্র বিক্রি করবে না।
ট্রাম্পের এ মন্তব্য আসে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান চীনে তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য সর্বোচ্চ ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পেতে পারে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, এমনটি ঘটলে তা হবে অত্যন্ত বিস্ময়কর। তবে তিনি জানান, শি চিনপিং তাকে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে চীন এ ধরনের কোনো কার্যক্রমে অংশ নেবে না।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, চীন ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প আরও জানান, গত সপ্তাহেও তিনি চীন ও রাশিয়াকে ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার দাবি, শি চিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—উভয়েই তাকে জানিয়েছেন, তাদের দেশ বর্তমানে ইরানকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, তার বিশ্বাস চীন ও রাশিয়া ইরানে অস্ত্র পাঠানো থেকে বিরত রয়েছে। তিনি বলেন, যদি তারা এমনটি করত, তবে সেটি তাদের নিজেদের স্বার্থেরও পরিপন্থী হতো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার পর ওয়াশিংটন নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে রাশিয়া বা চীনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানকে কোনো ধরনের তথ্য বা সহায়তা দিয়েছে কি না।
তবে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত শি চিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া আশ্বাসের প্রতিই আস্থা প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, দুই নেতাই তাকে জানিয়েছেন যে তারা ইরানকে অস্ত্র সরবরাহে জড়িত নন এবং তিনি তাদের কথাই বিশ্বাস করতে চান।
কসমিক ডেস্ক