‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের তৎপরতা রয়েছে’ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের তৎপরতা রয়েছে’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 18, 2026 ইং
‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের তৎপরতা রয়েছে’ ছবির ক্যাপশন:

ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার দাবি করেছেন, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কার্যক্রম বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে বিস্তারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা ইতোমধ্যে আঞ্চলিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

রিউভেন আজারের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই ইসরায়েল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি দাবি করেন, ওই হামলার পর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট কিছু কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তবে তিনি এই দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, কিছু তথ্য জনসম্মুখে থাকলেও অনেক বিষয় রয়েছে যা প্রকাশ্যে আসে না। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, হামাসের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক বা সমর্থন কাঠামো বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকতে পারে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রাষ্ট্রদূত পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এবং চরমপন্থা দমনে দেশটির আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তার মতে, কিছু দেশের রাজনৈতিক অবস্থান ইসরায়েলের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের সরকারি মহলের কিছু অংশ ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়াচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অবস্থান কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে।

রিউভেন আজার আরও বলেন, হামাস যেভাবে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে, একই ধরনের কৌশল অন্যান্য চরমপন্থী গোষ্ঠীও বিশ্বব্যাপী অনুসরণ করতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য সতর্ক থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের প্রসঙ্গও উঠে আসে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলের দাবি, এর লক্ষ্য হামাসকে নির্মূল করা।

তবে এই সামরিক অভিযানে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষের মৃত্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতিকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বিষয়ক সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো কূটনৈতিক বক্তব্যের পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

সব মিলিয়ে, রিউভেন আজারের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মোবাইল ফোনে বিয়ে করে একাধিক সম্পর্ক, কুড়িগ্রামে তোলপাড়

মোবাইল ফোনে বিয়ে করে একাধিক সম্পর্ক, কুড়িগ্রামে তোলপাড়