ফেনীর দাগনভুঞা থানার অভ্যন্তরীণ পুকুর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২১৯ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার পুকুরে সেচ দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে এই কার্তুজগুলো উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানার মতো দাগনভুঞা থানাতেও হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। সে সময় থানার ৩৬৫ রাউন্ড গুলিসহ কিছু অস্ত্র ও সরঞ্জাম লুট বা খোয়া যায়।
দীর্ঘদিন পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ হওয়া সরঞ্জামের একটি অংশ থানার পুকুরে থাকতে পারে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হান এবং দাগনভুঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমানের নেতৃত্বে পুকুরে সেচ কার্যক্রম শুরু করা হয়। পানি শুকিয়ে ফেলার পর কাদার মধ্যে তল্লাশি চালিয়ে ২১৯টি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ মুমিদ রায়হান কালের কণ্ঠকে জানান, “একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হই যে গণ-অভ্যুত্থানকালে নিখোঁজ হওয়া কিছু সরঞ্জাম পুকুরে থাকতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা অক্ষত অবস্থায় কার্তুজগুলো উদ্ধার করেছি।”
ওসি ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, “উদ্ধার করা প্রতিটি কার্তুজের গায়ে ‘বাংলাদেশ পুলিশ’ লেখা রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানার ৩৬৫টি গুলি লুট হয়েছিল, যার মধ্যে ২১৯টি এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পুকুরে আরও কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকৃত কার্তুজগুলো বর্তমানে থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত কার্তুজগুলো দীর্ঘদিন পুকুরে পড়ে থাকার কারণে কিছুটা মাটি ও কাদায় আচ্ছন্ন ছিল। বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্ধার অভিযান সুনিশ্চিত করছে যে লুট হওয়া বা হারানো অস্ত্র পুনরায় কোনো অবৈধ কাজে ব্যবহার হবে না।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, এই উদ্ধারকৃত কার্তুজগুলো থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং অতীতের লুট হওয়া সামগ্রীর হিসাব সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করবে। এছাড়া পুলিশের জন্য এটি গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রী পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে গণ্য হবে।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ও সহিংসতায় দাগনভুঞা থানা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। সেসময় থানার গুলিসহ অস্ত্র লুট হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলার জন্য দীর্ঘদিন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল। এখন ২১৯ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হওয়ায় ওই সময়ের ক্ষতিপূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।
পুলিশ প্রশাসন সতর্ক করেছে, এ ধরনের অস্ত্র ও কার্তুজ লোপ পাওয়ার ঘটনা পুনরায় যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্ত করা হবে। জনগণকে সচেতন থাকতে এবং কোনো সন্দেহজনক ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশকে অবহিত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক