কাজ শেষ না হতেই সড়কে ভাঙন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কাজ শেষ না হতেই সড়কে ভাঙন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 3, 2026 ইং
কাজ শেষ না হতেই সড়কে ভাঙন ছবির ক্যাপশন:

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই কোথাও পিচ উঠে যাচ্ছে, কোথাও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের মধ্যেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এলজিইডির ‘পাহাড়ে স্থানীয় গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন সড়কের কাজ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে রুমা-রোয়াংছড়ি অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়কের পাইন্দু হেডম্যানপাড়া অংশের নির্মাণকাজ নিয়ে। এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ৬১০ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ছয়টি স্থানে মোট ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ছোহ্লামং মারমা, এবাই মং মারমা ও উক্য থোয়াই মারমা জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে একই সড়কের প্রথম ধাপে প্রায় ১ হাজার ৫০ মিটার অংশে পিচ ঢালাইয়ের কাজ ২০২৪ সালে শেষ হয়। কিন্তু মাত্র এক বছরের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত না করেই নতুন অংশে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি মায়াধন কনোটেক্সনের লাইসেন্সের আওতায় পরিচালিত হলেও বাস্তবে কাজ বাস্তবায়ন করছেন উপঠিকাদার মেহেদী হাসান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রকল্পটি পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে লাইসেন্সধারী মায়াধন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, কাজটি তার লাইসেন্সে হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন মেহেদী হাসান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপঠিকাদার মেহেদী হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

পাইন্দু ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গংবাসে মারমা দাবি করেন, প্রকল্পে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা। তিনি বলেন, প্রথম ধাপের সড়ক এক বছরের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপের কাজ নিয়েও এলাকাবাসীর নানা অভিযোগ রয়েছে।

এলজিইডির তদারকির দায়িত্বে থাকা ফিল্ড অফিসার (এসও) বিদ্যুৎ চরণ ধর জানান, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা কার্যালয়কে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে রুমা উপজেলার অতিরিক্ত উপজেলা প্রকৌশলী ও চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী দিবাকর রায়ের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, কোনো সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
রমজান ও ঈদ উপলক্ষে কাল থেকে বন্ধ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল

রমজান ও ঈদ উপলক্ষে কাল থেকে বন্ধ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল