চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত এলাকায় সাতজনকে পুশইনের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বৃহস্পতিবার ভোরে সীমান্ত পেরিয়ে সাতজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। তবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর তাদের মধ্যে পাঁচজন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার দাবি উঠেছে।
অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া দুই ব্যক্তি—খুলনার বাসিন্দা আমিনুর রহমান ও খলিলুর রহমান—জানান, তারা প্রায় দুই বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের মাটিয়ারি সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদেরসহ মোট সাতজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। তাদের ভাষ্যমতে, সীমান্ত অতিক্রম করার সময় তারা কোনো ধরনের নিরাপত্তা বাহিনী, যেমন বিজিবি বা পুলিশের সম্মুখীন হননি।
তবে বাংলাদেশে প্রবেশের পরপরই বাকি পাঁচজন কোথায় চলে গেছেন, সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ এবং পুশইন সংক্রান্ত বিষয়গুলো বরাবরই সংবেদনশীল হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মহেশপুর-৫৮ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানিয়েছেন, পুশইন সংক্রান্ত কোনো তথ্য এখনো তাদের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, জীবননগর এলাকার আশপাশে ‘পাটোয়ারি’ নামে কোনো সীমান্ত চিহ্নিত নেই। ফলে ঘটনাটি সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়, তবে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এতে মানবপাচার, অবৈধ পারাপার কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং নিখোঁজ পাঁচজনের সন্ধানে তদন্ত চালাচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, জীবননগর সীমান্তের এই ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটন এবং নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক