রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আরও ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, মোট নিহত ৩৯ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আরও ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, মোট নিহত ৩৯

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 23, 2026 ইং
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আরও ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, মোট নিহত ৩৯ ছবির ক্যাপশন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত বাংলাদেশিদের ঘটনায় দেশে শোক ও উদ্বেগ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আরও দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, যার ফলে এই সংঘাতে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা অন্তত ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে প্রাণ হারানোর এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন মাদারীপুরের সুরুজ কাজী (৩৫) এবং কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪)। তাদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জীবিকার খোঁজে তারা রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। পরে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেই তাদের মৃত্যুর খবর আসে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগড়াছড়া এলাকার বাসিন্দা সুরুজ কাজী পরিবারের বড় সন্তান ছিলেন। পরিবারের দাবি, ভালো জীবনের আশায় তিনি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। তবে সেখানে গিয়ে তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান। তার মৃত্যুর খবর বুধবার রাতে নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।

পরিবার আরও জানায়, সুরুজ কাজীর দুই বছরের সন্তান মাত্র তিন মাস আগে অসুস্থতায় মারা যায়। সন্তান হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার এখন চরম মানসিক সংকটে রয়েছেন। পরিবার তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীর হোসেন কয়েকদিন আগে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই জেলার আরেক যুবক এর আগে ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন অভিযোগে বলা হচ্ছে, কুমিল্লার ইউসুফ খান নামের আরও একজন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যদিও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের রাশিয়ায় পাঠাচ্ছে। সেখানে পৌঁছানোর পর অনেককে নির্মাণ কাজের পরিবর্তে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।

একাধিক পরিবার দাবি করেছে, তাদের স্বজনদের চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিদেশে নেওয়া হলেও পরে তাদের যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কিছু অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় রাশিয়ায় অবস্থানরত এক বাংলাদেশি তরুণ দাবি করেন, তাদের একটি দলকে চাকরির নামে নেওয়া হলেও পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। তার দাবি অনুযায়ী, সেই দলের কয়েকজন ইতোমধ্যে মাইন ও ড্রোন বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে মানবপাচার ও প্রতারণার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে অসাধু চক্রের কার্যক্রম বন্ধ না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, কেউ যেন যুদ্ধের উদ্দেশ্যে রাশিয়া বা ইউক্রেনে যেতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা ও মানবপাচার রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন শুধু আন্তর্জাতিক সংঘাত নয়, বরং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিক ও অভিবাসীদের জন্যও একটি বড় ঝুঁকির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
জার্মান চ্যান্সেলরকে অপহরণের ইঙ্গিত মেদভেদেভের, বার্লিনের কড়

জার্মান চ্যান্সেলরকে অপহরণের ইঙ্গিত মেদভেদেভের, বার্লিনের কড়