২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে এসে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের বিতর্কও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। রেফারিং, ভিএআর এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর এবার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘটনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ফিফার পূর্ণ ডিসিপ্লিনারি কমিটির আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল-কামালি একাই নিয়েছিলেন। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেননি বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিষয়টি আরও বেশি আলোচিত হয়েছে কারণ এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বালোগানের শাস্তি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এরপরই ফিফা বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন ফোলারিন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে তার খেলার সুযোগ থাকার কথা ছিল না। কিন্তু শাস্তি স্থগিত হওয়ায় তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে সক্ষম হন।
তবে মাঠের ফলাফলে তার উপস্থিতি কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, এমন সিদ্ধান্ত সাধারণত চেয়ারম্যান, ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং আরেক সদস্যকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি প্যানেল গ্রহণ করে। কিছু ক্ষেত্রে ডেপুটি চেয়ারম্যানও একক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু বালোগানের ঘটনায় প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৩ জন ফুটবলার লাল কার্ড দেখেছেন। তাদের মধ্যে ১২ জন নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ ছিলেন বা থাকবেন। বালোগানই একমাত্র খেলোয়াড়, যার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়নি। এ কারণে সমতা, স্বচ্ছতা এবং শৃঙ্খলাবিধির নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে উল্লেখ্য, এ বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্ট দাবিগুলোর বিষয়ে ফিফার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক