চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর জাতীয় সংসদে প্রথম বক্তব্যে নিজের প্রার্থিতা বাতিল, আদালতের রায় এবং সংসদে যোগদানে বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সংসদ অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে ঋণখেলাপি বলে জাতির কাছে ছোট করা হয়েছে। গত চার মাস জাতীয় সংসদে আসতে না দিয়ে এলাকার মানুষকে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
সরোয়ার আলমগীর বলেন, যারা ইনসাফের কথা বলেন, তারাই তাকে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করেছেন। তার ভাষায়, জনগণ যদি ক্ষমতার উৎস হয়ে থাকে, তাহলে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরও কেন তাকে আদালতের মাধ্যমে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তর তিনি জানতে চান।
তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যাংকের মামলা ছিল না এবং তিনি দ্বিতীয়বারের মতো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ফটিকছড়ির মানুষ তাকে ভোট দিয়ে তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি এবং দলীয় প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের অনুমতি (লিভ টু আপিল) চান। আপিল বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করে শুনানির নির্দেশ দেন।
সবশেষে গত ২ জুলাই শুনানি শেষে ৯ জুলাই আদালত সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে রায় দেন। ওই রায়ের পর তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে অধিবেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
কসমিক ডেস্ক