২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি হবে নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রথম বাজেট, যা আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ মোকাবিলায় এবারের বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম ছিল। তবে নতুন অর্থবছরে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ানোর পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা সরকারকে বড় বাজেটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে সরকারি ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। একইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার বিষয়টিও বাজেট ব্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আজ রবিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, নতুন বাজেট দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের পর সংসদে আলোচনা শেষে তা অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।
কসমিক ডেস্ক