কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 4, 2026 ইং
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট ছবির ক্যাপশন:

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে প্রতিনিধিদলটি শরণার্থী শিবিরে পৌঁছে সেখানে চলমান মানবিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে।

সফরের সময় প্রতিনিধিদল শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় চলমান কার্যক্রম, মানবিক সহায়তার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আরআরআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক (এফডিএমএন) এবং কক্সবাজারের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে বাংলাদেশ সরকার এবং জাইকার দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই সফর সেই সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে জাইকা কক্সবাজার অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, জীবিকা উন্নয়ন, মৎস্য খাত, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) এবং নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ, অনুদান ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে প্রায় ৩৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে সংস্থাটি।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রেও জাইকার ভূমিকা বহুমাত্রিক। সংস্থাটি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগেও অংশগ্রহণ করছে।

সফরকালে জাইকার প্রতিনিধিদল শিবিরে পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। বিশেষভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য মৌলিক সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিনিধিদল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হয় এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত ও কার্যকর সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও আলোচনা হয়।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার জাইকার অব্যাহত সহযোগিতার জন্য সংস্থাটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাইকা বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে তাদের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও জাইকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে কক্সবাজারে পরিচালিত মানবিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সেবার সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে দুই পক্ষের অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত হবে।

জাইকা প্রতিনিধিদলের এই সফরকে সংশ্লিষ্টরা কক্সবাজারে চলমান মানবিক কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন, বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নেইমারেই ভরসা খুঁজছে ব্রাজিল

নেইমারেই ভরসা খুঁজছে ব্রাজিল