কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরটেকী গ্রাম এখন কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ সদস্য বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে গ্রামটিতে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলে গ্রামের অনেক বাড়িতেই এখন শুধু নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের দেখা যাচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৬ মার্চ ভোরে। ওই সময় এক ব্যক্তি একটি ষাঁড়গরু নিয়ে দক্ষিণ চরটেকী গ্রামের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় দিয়ে হাঁটছিলেন। বিষয়টি দেখে সেখানে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সন্দেহ হয়।
শ্রমিকরা গরুসহ ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ওই ব্যক্তিকে মারধর শুরু করে।
মারধরের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। পরে জানা যায় নিহত ব্যক্তির নাম রমিজ উদ্দীন। তিনি উপজেলার আলগীরচর গ্রামের বাসিন্দা এবং হযরত আলীর ছেলে।
ঘটনার পর নিহতের বাবা হযরত আলী বাদী হয়ে একই দিন বিকেলে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
পুলিশ দ্রুত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে এবং সেদিন রাতেই দক্ষিণ চরটেকী গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় শাকিল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ৭ মার্চ দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই গ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি থাকায় গ্রামের অনেক পুরুষ সদস্য নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ফলে তারা বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে শুরু করেন। এতে করে পুরো গ্রাম এখন প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম জানান, মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি থাকায় অনেক নিরীহ মানুষও আতঙ্কে রয়েছেন। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন তারাও গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তিনি বলেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু পুরুষ সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ায় ক্ষেতের সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং সেগুলো বাজারে নিয়ে বিক্রি করাও সম্ভব হচ্ছে না।
এতে করে স্থানীয় কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত আসামিদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং যারা নির্দোষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
কসমিক ডেস্ক