মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে নতুন মোড় এনে দিয়েছে দেশটির সামরিক সরকারের বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ নীতি। যুদ্ধক্ষেত্রে বিদ্রোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে জনবল সংকটে ভোগা জান্তা সরকার ২০২৪ সালে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আইন কার্যকর করার পর পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
বিবিসির সঙ্গে কথা বলা চার তরুণ জানিয়েছেন, তাঁরা কেউই স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেননি। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের আটক করে বা বিভিন্ন অভিযোগে ফাঁসিয়ে সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে চার মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতা এবং কঠোর পরিবেশে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁরা পালিয়ে বিদ্রোহী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আশ্রয় নেন।
তাঁদের অভিযোগ, জোরপূর্বক নিয়োগপ্রাপ্তদের ওপর অধিকাংশ কঠিন কাজের চাপ দেওয়া হতো এবং তারা পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগও পেতেন না। বর্তমানে তাঁরা বিদ্রোহী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে থাইল্যান্ড সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্রোহী কমান্ডারদের মতে, বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগই বর্তমানে তাঁদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর ফলে জান্তা বাহিনী দ্রুত নতুন সদস্য সংগ্রহ করতে পারছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সংখ্যাগত সুবিধা অর্জন করছে। পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর ড্রোন সক্ষমতা ও আকাশশক্তিও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছেন বিদ্রোহী নেতারা।
বিদ্রোহী বাহিনীর নেতারা আরও জানান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেও অর্থ ও অস্ত্রের ঘাটতির কারণে তাঁরা পিছিয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, গোলাবারুদ এবং আধুনিক অস্ত্রের অভাব তাদের যুদ্ধক্ষমতাকে সীমিত করছে।
এদিকে চীনের মধ্যস্থতায় কিছু যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ এবং অস্ত্র সরবরাহের ওপর নিয়ন্ত্রণও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে কয়েক বছর আগে যেসব বিদ্রোহী জোট একের পর এক এলাকা দখল করেছিল, তাদের অনেকেই এখন প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে চলে গেছে।
তবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বিদ্রোহী যোদ্ধাদের অনেকেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছেন। আহত যোদ্ধা কিয়ার সোয়ে বলেছেন, গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পরও তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যেতে চান। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের পিছু হটার আর কোনো পথ নেই।
কসমিক ডেস্ক