দেশের হাওর ও জলাভূমির অস্তিত্ব রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। হাওর বা জলাভূমি অবৈধভাবে দখল, ভরাট কিংবা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কঠোর শাস্তির বিধান
অধ্যাদেশে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জারি করা ‘সুরক্ষা আদেশ’ অমান্য করা, হাওর-জলাভূমি বা কান্দা এলাকায় অবৈধ দখল, ভরাট, অনুমোদনহীন খনন অথবা পানির প্রবাহ ব্যাহত করে এমন অবকাঠামো নির্মাণ করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
এ ধরনের অপরাধকে আমলযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
নিষিদ্ধ কার্যক্রম
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী হাওর ও জলাভূমি এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পানি উত্তোলন, মাটি, বালু ও পাথর আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিযায়ী পাখি শিকার, সংরক্ষিত জলজ প্রাণী নিধন, জলাবন ধ্বংস এবং বিষটোপ বা কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অধিদপ্তরের ক্ষমতা বৃদ্ধি
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ২০১৬ সালে গঠিত বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে হাওর ও জলাভূমি এলাকায় কোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে অধিদপ্তরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।
অধিদপ্তর যাচাই করবে, প্রস্তাবিত প্রকল্প পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না।
সুরক্ষিত এলাকা ঘোষণা
সরকার প্রয়োজনে বিশেষ কোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এসব এলাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বা জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর স্থাপনা থাকলে তা অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে।